মোড়েলগঞ্জ (বাগেরহাট) প্রতিনিধি: রফিকুল ইসলাম রুমি;
বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার চাঁদেরখোলা ইউনিয়নের রাড়িপাড়া গ্রামে একই ঘর থেকে মা, ছেলে ও নানীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তাদের শ্বাসরোধ ও মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট ২০২৬) উপজেলার চাঁদেরখোলা ইউনিয়নের রাড়িপাড়া গ্রামের (ডাকঘর: সোলারখোলা) একটি ঘর থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন—আহাদ আলী (১৮), পেশায় ইলেকট্রিক মিস্ত্রি; তার মা মনিরা বেগম মণি (৫২) এবং নানী রাশিদা বেগম (৮৫)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন আগে রাশিদা বেগম বেড়াতে মেয়ে মনিরা বেগমের বাড়িতে আসেন। আহাদ আলী ছিলেন তিন ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট। ছোটবেলায় বাবাকে হারানোর পর মা মনিরা বেগম অনেক কষ্টে সন্তানদের বড় করে তোলেন।
মঙ্গলবার ঘরের ভেতর পৃথক তিনটি স্থানে তাদের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয়দের ধারণা, দুই-এক দিন আগেই তাদের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।
খবর পেয়ে কচুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হারুন অর রশিদ ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে পিবিআই, সিআইডিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহের কাজ করেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্টদের প্রাথমিক ধারণা, শ্বাসরোধ এবং মাথায় আঘাতের কারণে তিনজনের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে এটি হত্যাকাণ্ড কি না এবং হত্যার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের সম্পর্কে তদন্তের পরই নিশ্চিতভাবে বলা যাবে।
পুলিশ মরদেহ তিনটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
এ ঘটনায় নিহতদের স্বজন ও এলাকাবাসী দ্রুত ঘটনার রহস্য উদঘাটন, জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
কচুয়া থানা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে তিনজনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।