প্রতিনিধি: মোঃ রফিকুল ইসলাম রুমি;
বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার পান বাড়িয়া গ্রামের ডাকুয়া বাড়িতে অবস্থিত একটি ‘জোড়া কবর’ ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে নানা রহস্য, লোককথা ও আধ্যাত্মিক বিশ্বাস প্রচলিত রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোঃ আরিফ ডাকুয়া নামের এক ব্যক্তি প্রায় শত বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। তার মৃত্যুর মাত্র এক মাসের ব্যবধানে তার স্ত্রী আলেকজান বিবিও দুনিয়া থেকে বিদায় নেন। পরবর্তীতে তাদের দু’জনকে পাশাপাশি সমাহিত করা হয়, যা বর্তমানে ‘জোড়া কবর’ নামে পরিচিত। গ্রামবাসীর দাবি, আরিফ ডাকুয়া ছিলেন একজন আধ্যাত্মিক সাধক। তার কবরের দৈর্ঘ্য প্রায় ৯ ফুট বলে জানা গেছে। জীবদ্দশায় তার ঝিনাইদহ জেলার হরিশপুর এলাকায় একটি আস্থানা (গুরুস্থান) ছিল বলে কথিত রয়েছে।আরিফ ডাকুয়ার বংশধর মহসিন সরদার জানান, তার পূর্বপুরুষ সম্পর্কে নানা অলৌকিক ঘটনার কথা প্রচলিত আছে। স্থানীয়দের বিশ্বাস অনুযায়ী, তার সঙ্গে সাতজন ‘পরী’ থাকতো এবং তিনি আধ্যাত্মিকভাবে বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে অবগত হতে পারতেন। এমনকি কোনো প্রাকৃতিক বিপদ দেখা দিলে তিনি তা আধ্যাত্মিক উপায়ে দূর করতে সক্ষম ছিলেন বলেও জনশ্রুতি রয়েছে। এছাড়া, গ্রামের রাখালরা কখনো মহিষ হারিয়ে ফেললে আরিফ ডাকুয়ার শরণাপন্ন হতেন। তিনি নির্দিষ্ট স্থানের কথা বলে দিতেন, যেখানে গিয়ে মহিষ পাওয়া যেত বলে দাবি স্থানীয়দের। কৃষকরাও ধানক্ষেতে পানি জমে গেলে তার কাছে আসতেন এবং তিনি কিছু সময় পর পানি সরে যাওয়ার কথা বললে কৃষকরা ধান কাটতে যেতেন—এমন বিশ্বাসও প্রচলিত রয়েছে। আরিফ ডাকুয়ার মৃত্যুর পর প্রতি বছর ১৬ ডিসেম্বর তার কবরকে কেন্দ্র করে বাৎসরিক দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হতো। এতে দূর-দূরান্ত থেকে ভক্তরা অংশগ্রহণ করতেন বলে জানা গেছে। তবে এসব ঘটনার বিষয়ে নির্ভরযোগ্য প্রামাণ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। অনেকেই একে স্থানীয় লোককথা ও বিশ্বাসের অংশ হিসেবে দেখছেন। স্থানীয়দের মতে, ‘জোড়া কবর’টি এখনো দর্শনার্থীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে আছে। অনেকে কৌতূহলবশত, আবার কেউ ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে কবরটি দেখতে আসেন।