বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৭:১১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
জরাজীর্ণ গোলপাতার ঘরে ভবিষ্যৎ গড়ার লড়াই: পশ্চিম তেলিগাতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের করুণ দশা; দৈবজ্ঞহাটি ইউনিয়ন বিএনপির কর্মীসভা অনুষ্ঠিত; সম্মিলনী মাধ্যমিক শিক্ষা নিকেতনে শিক্ষার্থী-অভিভাবক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত; ঐতিহ্যবাহী দৈবজ্ঞহাটীতে প্রস্তাবিত সেলিমাবাদ থানা বাস্তবায়নের দাবিতে উত্তাল মোড়লগঞ্জ উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের কামলা বাজার; ​১নং সাদিয়া চাঁদপুর ইউনিয়নে মেম্বার পদপ্রার্থী গোলাম ছারোয়ারের ঈদ শুভেচ্ছা: বাগেরহাটের দৈবজ্ঞহাটীতে প্রস্তাবিত সেলিমাবাদ থানা বাস্তবায়নের দাবিতে মানববন্ধন; পানগুছি নদীতে সেতুর দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন; বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মোঃ বাচ্চু শেখের মৃত্যু; প্রস্তাবিত সেলিমাবাদ থানা বাস্তবায়ন লক্ষ্যে স্মারকলিপি সরকারের সিনিয়র সচিব; শোক সংবাদ;

জরাজীর্ণ গোলপাতার ঘরে ভবিষ্যৎ গড়ার লড়াই: পশ্চিম তেলিগাতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের করুণ দশা;

  • প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬
  • ১৯ বার পড়া হয়েছে

বিশেষ প্রতিবেদন, মোড়েলগঞ্জ (বাগেরহাট):

বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার তেলিগাতী ইউনিয়নের ১৯০নং পশ্চিম তেলিগাতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আজ শিক্ষা অবকাঠামোর অবহেলার এক নির্মম উদাহরণ। ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টিতে দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী ভবন না থাকায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে একটি জরাজীর্ণ গোলপাতার ঘরে। ফলে শতাধিক কোমলমতি শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

গোলপাতার ঘরেই চলছে পাঠদান

বিদ্যালয়ের পুরোনো ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ২০২২ সালে নিলামের মাধ্যমে অপসারণ করা হয়। এরপর সাময়িকভাবে একটি গোলপাতার ঘর নির্মাণ করে সেখানে পাঠদান শুরু হয়। কিন্তু কয়েক বছর পেরিয়ে গেলেও স্থায়ী ভবন নির্মাণ হয়নি।

সরেজমিনে দেখা যায়, সামান্য বৃষ্টিতেই গোলপাতার চাল দিয়ে পানি পড়ে বই-খাতা ভিজে যায়। মাটির মেঝেতে কাদা জমে, বেঞ্চ ভিজে যায় এবং শ্রেণিকক্ষে বসে পাঠদান করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। তীব্র রোদ কিংবা বর্ষা— কোনো মৌসুমেই শিক্ষার্থীরা নিরাপদ পরিবেশে পাঠ গ্রহণ করতে পারে না।

বরাদ্দ এলেও কাজ হয়নি

বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ অবস্থা বিবেচনায় ২০২৫ সালের ১ জুন এলজিআরডির আওতায় জরুরি মেরামতের জন্য ৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আশার সঞ্চার হলেও রহস্যজনক কারণে সেই বরাদ্দের কোনো কাজ বাস্তবায়ন হয়নি।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, শিক্ষা অফিস ও এলজিআরডি অফিসে একাধিকবার যোগাযোগ করেও কোনো অগ্রগতি হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শেষ পর্যন্ত বরাদ্দের অর্থ ফেরত চলে যায়। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

শিক্ষকদের হতাশা

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রোজিনা আক্তার বলেন,
“বিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতির ছবি ও ভিডিওসহ একাধিকবার আবেদন করেছি। কিন্তু এখনো কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্ষাকালে এই ঘরে পাঠদান চালিয়ে যাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।”

সাবেক প্রধান শিক্ষক সেখ মুজিবুর রহমান বলেন,
“অনেক চেষ্টা করেও বিদ্যালয়ের জন্য নতুন ভবন আনতে পারিনি। অথচ অনেক বিদ্যালয়ে একাধিক ভবন থাকলেও আমাদের একটি মানসম্মত শ্রেণিকক্ষও নেই।”

সহকারী শিক্ষক এনামুল কবির বলেন,
“আমরা আন্তরিকতার সঙ্গে পাঠদান করি। কিন্তু এমন পরিবেশে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। বারবার আবেদন করেও কোনো সমাধান মিলছে না।”

শিক্ষার্থীদের আকুতি

শিক্ষার্থী আব্রিতা, মুমিনুল, মরিয়ম ও ফাতেমা জানায়,

“বৃষ্টি হলে বই-খাতা ভিজে যায়, ক্লাসরুমে কাদা জমে। আমরা ঠিকমতো ক্লাস করতে পারি না। পাশের স্কুলগুলোতে সুন্দর ভবন আছে, আমাদের স্কুলটাও কি সুন্দর হবে না?”

অভিভাবকদের ক্ষোভ

অভিভাবকদের অভিযোগ, ডিজিটাল বাংলাদেশের যুগে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গোলপাতার ঘরে পাঠদান অত্যন্ত দুঃখজনক। শিক্ষা খাতে বিপুল বরাদ্দের কথা শোনা গেলেও তাদের বিদ্যালয়ের জন্য একটি স্থায়ী ভবন নির্মাণ না হওয়ায় তারা বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি

বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে বিদ্যালয়ের জন্য একটি নতুন ভবন নির্মাণ এবং স্থায়ী ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত নিরাপদ বিকল্প শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যথায় শতাধিক শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দ্রুত হস্তক্ষেপ করে ১৯০নং পশ্চিম তেলিগাতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের অবহেলার অবসান ঘটিয়ে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করবেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।

Theme Customized By BreakingNews