
(বাগেরহাট) মডেলগঞ্জ প্রতিনিধি:
বাগেরহাটের শরণখোলায় পারিবারিক বিরোধ ও যৌতুকের দাবিকে কেন্দ্র করে সালমা আক্তার (৩০) নামে এক গৃহবধূকে মারধর, নির্যাতন এবং হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে।
অভিযোগকারী সালমা আক্তার শরণখোলা থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, প্রায় আট বছর আগে মো. ইব্রাহিম হাওলাদারের (৩৫) সঙ্গে রেজিস্ট্রি কাবিনমূলে তার বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে সিফাত নামে ছয় বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। স্বামী ইব্রাহিম হাওলাদার বর্তমানে কর্মসূত্রে সিঙ্গাপুরে অবস্থান করছেন।
অভিযোগে সালমা আক্তার আরও দাবি করেন, বিয়ের কয়েক মাস পর থেকেই শ্বশুর আব্দুল মালেক হাওলাদার (৬০), শাশুড়ি রেহেনা আক্তার (৫৫) ও স্বামী ইব্রাহিম হাওলাদার যৌতুকসহ বিভিন্ন দাবিতে তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছেন। এর আগে স্বামীর বিরুদ্ধে একাধিকবার মারধরের অভিযোগও করেন তিনি।
লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে গোলবুনিয়া গ্রামের শ্বশুরবাড়িতে গৃহস্থালির কাজ করার সময় সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে শ্বশুর-শাশুড়ি তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে তারা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে জখম করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, এ সময় শ্বশুরের হাতে থাকা লোহার কোচ দিয়ে সালমা আক্তারের মাথায় আঘাত করার চেষ্টা করা হলে তিনি হাত দিয়ে ঠেকান। এতে তার বাম হাতের তালুতে গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়। পরে তাকে বাড়ি থেকে বের হয়ে না গেলে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার সময় প্রতিবেশীরা বিষয়টি দেখতে পেয়ে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সালমার বাবার বাড়িতে খবর দেন। পরে তার বাবা আলী আকন স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে শরণখোলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরিবারের পক্ষ থেকে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবহিত করার পর থানায় অভিযোগ করা হয় বলে জানা গেছে।
অভিযোগকারী জানান, ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও সাক্ষী রয়েছেন। অভিযোগপত্রে রিনা বেগম, আলী আকন ও নান্না আকনের নাম সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শরণখোলা থানার কাছে আবেদন জানিয়েছেন সালমা আক্তার।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।