রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:০৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শিক্ষিত পরিবারের ঐক্য, নীতি-নৈতিকতা ও জনকল্যাণের দৃষ্টান্ত মোরেলগঞ্জে* শিক্ষিত পরিবারের ঐক্য, নীতি-নৈতিকতা ও জনকল্যাণের দৃষ্টান্ত মোরেলগঞ্জে; দৈবজ্ঞহাটীতে প্রস্তাবিত সেলিমাবাদ থানা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরজমিনে পরিদর্শন করেন এডিশনাল এসপি। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও মাহফিল দৈবজ্ঞহাটীতে প্রস্তাবিত সেলিমাবাদ থানা বাস্তবায়ন এখন সময়ের ব্যাপার দীর্ঘদিনের দাবিতে নতুন আশার আলো, বাস্তবায়নের অপেক্ষায় এলাকাবাসী হাজারো মানুষের দুর্ভোগের শেষ কোথায়? দ্রুত রাস্তা সংস্কারের জোরালো দাবি!* রুহুল কবির রিজভী আহমেদকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মনোনীত করায় বাগেরহাট জেলা বিএনপির শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন রাড়ীপাড়া ইউনিয়ন ওয়ার্ড ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ উপলক্ষে অতিথিদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন মোড়েলগঞ্জে শহীদ আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ৩য় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ট্রলার ডুবিতে জেলে জামাল হাওলাদারের মর্মান্তিক মৃত্যু, পরিবারের পাশে মৎস্য সমিতির নেতৃবৃন্দ

শিক্ষিত পরিবারের ঐক্য, নীতি-নৈতিকতা ও জনকল্যাণের দৃষ্টান্ত মোরেলগঞ্জে;

  • প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ অগাস্ট, ২০২৬
  • ১০ বার পড়া হয়েছে

মোরেলগঞ্জ বাগেরহাট, শেখ মিজানুর রহমান মিলন /এম পলাশ শরীফ :

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের কামলা গ্রামের একটি শিক্ষিত ও ঐতিহ্যবাহী পরিবার দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা, নীতি-নৈতিকতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে এলাকাবাসীর কাছে বিশেষভাবে পরিচিত।
পরিবারের নয় ভাইয়ের প্রত্যেকেই উচ্চশিক্ষিত এবং সমাজের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে নিজ নিজ অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত—যা শুধু পরিবারের জন্য নয়, গোটা এলাকার জন্যও গর্বের বলে মনে করেন সচেতন মহল।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই পরিবারের সদস্যরা পারস্পরিক ঐক্য, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট রেখে দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও পেশাগত জীবনে সুনামের সঙ্গে নিজেদের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কেউ সরকারি প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন, কেউ আইন পেশায়, কেউ শিক্ষা প্রশাসনে এবং কেউ জনপ্রতিনিধি হিসেবে মানুষের সেবায় যুক্ত রয়েছেন।

পরিবারটির অন্যতম সদস্য ড. মোহাম্মদ মশিউর রহমান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সিনিয়র সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর ভাই অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম কাজল দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পিপি হিসেবে আইন পেশায় যুক্ত। আরেক ভাই মো. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু পিরোজপুর সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে শিক্ষা প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। পরিবারের জ্যেষ্ঠ সদস্য সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আতাউর রহমানও জনপ্রতিনিধি হিসেবে দক্ষতা, মানবিকতা ও সৌজন্যবোধের মাধ্যমে এলাকাবাসীর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেছেন বলে জানান স্থানীয়রা।

সচেতন নাগরিকদের মতে, একটি পরিবারের প্রকৃত মর্যাদা কেবল তার সদস্যদের কর্মক্ষেত্রের সাফল্যে নয়, বরং সমাজের প্রতি তাদের দায়বদ্ধতা, মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ, নৈতিক অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে শিক্ষিত ও মানবিক করে গড়ে তোলার মানসিকতার মধ্যেই নিহিত। সে বিবেচনায় রামচন্দ্রপুরের ইউনিয়নের এই পরিবারটি একটি ইতিবাচক উদাহরণ তৈরি করেছে বলে মনে করেন অনেকে।

স্থানীয় শিক্ষা অনুরাগী একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “একটি পরিবারের প্রায় সব সদস্য যখন উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হন এবং একই সঙ্গে এলাকার শিক্ষা ও উন্নয়নের কথা ভাবেন, তখন সেটি নিঃসন্দেহে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার বিষয়। এই পরিবারের শিক্ষার প্রতি অনুরাগ ও পারস্পরিক ঐক্য আমাদের সমাজের জন্য একটি অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত হতে পারে।

এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন সময়ে এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছেন। মোরেলগঞ্জের সেলিমাবাদ এলাকায় নতুন থানা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েও সংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে আলোচনা ও প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে জানা গেছে। অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম কাজলসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।

এ ছাড়া পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও নিজেদের অবস্থান থেকে এলাকার উন্নয়ন, শিক্ষা বিস্তার ও জনকল্যাণে বিভিন্ন উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন বলে জানান স্থানীয়রা। তাঁদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতেও এই পরিবারের সদস্যরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে মোরেলগঞ্জসহ বৃহত্তর এলাকার উন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।

তবে একটি পরিবারের সামাজিক গ্রহণযোগ্যতার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি তাদের আচরণ ও নৈতিক অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন সচেতন নাগরিকরা। তাঁদের মতে, মত-পথের ভিন্নতা থাকলেও পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ বজায় রাখাই একটি সুস্থ সমাজের অন্যতম ভিত্তি। এই পরিবারের সদস্যদের সম্পর্কে স্থানীয়দের একটি বড় অংশের অভিমত হলো—তাঁরা দল-মত নির্বিশেষে মানুষের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করেন এবং সুযোগ পেলে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ান।

ঢাকায় বসবাসরত একজন সমাজসেবক, নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক তিনি বলেন, মোঃ আতাউর রহমান সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সাহেবের পরিবারকে আমি দীর্ঘদিন ধরে চিনি। তাঁদের সম্পর্কে মানুষের যে ইতিবাচক ধারণা রয়েছে, তার অন্যতম কারণ হলো তাঁরা ছোট-বড় সবার সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ করার চেষ্টা করেন। মানুষের পাশে থাকা এবং সমাজের জন্য কিছু করার মানসিকতাই একটি পরিবারকে মানুষের কাছে আলাদা মর্যাদা এনে দেয়।

স্থানীয় সচেতন মহলের আরও অভিমত, শিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে সমাজ স্বাভাবিকভাবেই ইতিবাচক নেতৃত্ব, নৈতিকতা ও জনকল্যাণের প্রত্যাশা করে। তাই তাঁদের ঘিরে কোনো ধরনের নেতিবাচক প্রচারণা বা ব্যক্তিস্বার্থকেন্দ্রিক বিরোধ সৃষ্টি না করে গঠনমূলক সমালোচনা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা জরুরি।

শিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধের আলোকে দেখলে, রামচন্দ্রপুরের এই পরিবারটির সবচেয়ে বড় অর্জন শুধু তাদের পেশাগত প্রতিষ্ঠা নয়—বরং একটি প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে শিক্ষার প্রতি আগ্রহ, পারিবারিক ঐক্য, সামাজিক মর্যাদা ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার চর্চা ধরে রাখা।

সচেতন মহল মনে করেন, মোরেলগঞ্জের মতো একটি জনপদে এমন শিক্ষিত ও কর্মনিষ্ঠ পরিবারের সংখ্যা যত বাড়বে, ততই শিক্ষা, মানবিকতা ও উন্নয়নের পরিবেশ শক্তিশালী হবে। তাঁদের প্রত্যাশা, এই পরিবারের সদস্যরা ভবিষ্যতেও ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি এলাকার শিক্ষা, সংস্কৃতি, সামাজিক উন্নয়ন ও জনকল্যাণে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন।

একটি শিক্ষিত পরিবারের প্রকৃত পরিচয় তার সম্পদ বা পদমর্যাদায় নয়; বরং জ্ঞানকে মানবিকতায়, শিক্ষাকে নৈতিকতায় এবং ব্যক্তিগত সাফল্যকে সমাজের কল্যাণে কতটা রূপান্তরিত করা যায়—তার মধ্যেই নিহিত। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে মোরেলগঞ্জের রামচন্দ্রপুরের এই পরিবারটি নতুন প্রজন্মের কাছে একটি অনুপ্রেরণার নাম হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন এলাকার শিক্ষানুরাগী ও সচেতন নাগরিকরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।

Theme Customized By BreakingNews