
শেখ মিজানুর রহমান মিলন;
(বিশেষ প্রতিনিধি) ;
বাগেরহাট জেলার মোড়েলগঞ্জ উপজেলার দৈবজ্ঞহাটী অঞ্চলটি ঐতিহাসিকভাবে প্রাচীন ‘সেলিমাবাদ পরগনা’-র অংশ ছিল। দৈবজ্ঞহাটী কেবল একটি স্থানীয় এলাকা বা বাজার হিসেবে পরিচিত হলেও, অতীতে এটি প্রশাসনিক ও রাজনৈতিকভাবে ঐতিহাসিক ‘সেলিমাবাদ’ নামেই খ্যাত ছিল।
এই ইতিহাস এবং নামকরণের পরিবর্তনকে মূলত কয়েকটি অধ্যায়ে বিভক্ত করা যায়:
১. ‘সেলিমাবাদ পরগনা’ সৃষ্টির ইতিহাস
মোগল রাজপুত্র সেলিমের নামানুসারে: সপ্তদশ শতাব্দীর শুরুতে (মোগল সম্রাট আকবরের রাজত্বকালে) মোগল রাজপুত্র সেলিম (যিনি পরবর্তীতে ‘সম্রাট জাহাঙ্গীর’ নামে সিংহাসনে আরোহণ করেন) পিতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে দক্ষিণ বাংলায় আসেন। তিনি এই অঞ্চলের (বর্তমান পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরিশাল ও বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ-দৈবজ্ঞহাটী সংলগ্ন অংশ) বিস্তীর্ণ ভূখণ্ড নিয়ে একটি নতুন পরগনা গঠন করেন এবং নিজের নামানুসারে এর নাম রাখেন ‘সেলিমাবাদ পরগনা’।
প্রশাসনিক গুরুত্ব: মোগল আমলে এবং পরবর্তীতে নবাবী ও ব্রিটিশ রাজত্বকালেও বিশাল এলাকা জুড়ে ‘সেলিমাবাদ পরগনা’ একটি রাজস্ব ও প্রশাসনিক অঞ্চল হিসেবে বহাল ছিল।
২. সেলিমাবাদ থেকে ‘দৈবজ্ঞহাটী’ নামকরণের পটভূমি
পরবর্তীকালে নির্দিষ্ট এই লোকালয়টি কিভাবে ‘দৈবজ্ঞহাটী’ নামে পরিচিতি পেল, তা নিয়ে দুটি প্রচলিত জনশ্রুতি রয়েছে:
দৈবজ্ঞ (জ্যোতিষী/পণ্ডিত) সম্প্রদায়:
প্রাচীনকালে বা মোগল-জমিদারি আমলে সেলিমাবাদ পরগনার এই স্থানটিতে একদল বিখ্যাত ‘দৈবজ্ঞ’ বা গণক/জ্যোতিষী (যাঁরা ভাগ্য গণনা ও পঞ্জিকা নির্ধারণ করতেন) বসবাস শুরু করেন। তাঁদের নিবাস ও আধিপত্যের কারণে এলাকাটি ‘দৈবজ্ঞদের ভিটি’ বা ‘দৈবজ্ঞদের হাট’ হিসেবে পরিচিত হতে থাকে, যা কালক্রমে দৈবজ্ঞহাটী রূপ নেয়।
দৈবজ্ঞ ঠাকুর বা সাধু পুরুষ:
অন্য এক মতানুসারে, এই এলাকায় একজন দৈবশক্তি সম্পন্ন সাধু বা গণক (দৈবজ্ঞ)-এর আগমন ঘটেছিল। তিনি এখানে একটি হাট বা বাজার গড়ে তোলেন। তাঁর নাম বা খেতাব অনুসারেই হাট এবং পরবর্তীতে পুরো ইউনিয়নের নামকরণ হয় দৈবজ্ঞহাটী।
৩. বর্তমান স্থানীয় স্মারক
যদিও প্রশাসনিক ও ভৌগোলিক নাম পরিবর্তন হয়ে অঞ্চলটি এখন দৈবজ্ঞহাটী নামে বহুল পরিচিত, তবুও পুরনো ঐতিহ্যের স্মারক হিসেবে এলাকার প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি এখনও ‘সলিমাবাদ ডিগ্রী কলেজ, দৈবজ্ঞহাটী’ নামে ঐতিহাসিক নামটি টিকিয়ে রেখেছে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।